Pages

Thursday, April 11, 2019

ভগবান মহাবীর ও বাংলায় জৈন ধর্ম

ভগবান মহাবীর

"জগৎ জুড়িয়া এক জাতি আছে, সে জাতির নাম মানুষ জাতি।
এক ই পৃথিবীর অন্নে লালিত, এক ই রবি শশী মোদের সাথী"

বাংলা ভাষার এইটি একটি প্রসিদ্ধ কবিতা। ভগবান মহাবীর কিন্তু আর ও আগে চলে গিয়েছিলেন। তিনি বললেন শুধু মানুষ নয় সমস্ত জীবজগত ই সম্মিলিত রূপে এক ই জাতি। তিনি জৈন আগম 'স্থানাংগ সূত্রে' উদাত্ত স্বরে ঘোষণা করলেন "এগে আয়া" অর্থাৎ সমস্ত জীব জগৎ এক. বসুধৈব কুটুম্বকমের এই অবধারণা ই মহাবীর কে অন্য্ সমস্ত মহাপুরুষদের থেকে ভিন্ন করে, এবং তাকে সর্বশ্রেষ্ঠ রূপে প্রস্তুত করে.

মহাবীরের অন্য্ একটা বিশেষত্ব নিয়ে চর্চা না করলে সেই মহাপুরুষকে ঠিক মত্ বোঝা যাবে না. কেবল জ্ঞান প্রাপ্তির পর তিনি সর্বজ্ঞ হলেন, তারপর উপদেশ প্রারম্ভ করলেন। তিনি যখন তার প্রথম উপদেশ দিলেন তখন কিন্তু সেটা নিজের নাম শুরু করেন নি. তিনি কখন ই বলেন নি যে তিনি কোনো নতুন ধর্ম প্রবর্তন করছেন। তিনি বললেন, আমার আগে অনন্ত অর্হৎ বা তীর্থঙ্কর হয়েছেন এবং ভবিষ্যতে ও হবেন। তারা সবাই এই বলেছেন, এবং ভবিষ্যতে বলবেন যে জেব মাত্রের হিংসা না করা অর্থাৎ অহিংসা ই একমাত্র ধর্ম। তিনি যে ধর্মের কথা বলছেন সেটা কিন্তু নতুন কিছু নয়, সেটা একটা নিত্য, সনাতন প্রবাহ। যেমন নদির প্রবাহ মাঝে মাঝে অবরুদ্ধ হয়ে যায়, এবং কোনো বিশিষ্ট শক্তিশালী মানুষ সেই প্রবাহ কে আবার  খুলে দেয় ঠিক সেই ভাবে ধর্মের প্রবাহ অবরুদ্ধ হলে, তার মধ্যে বিকৃতি এলে তীর্থঙ্কর জন্ম নেন এবং ধর্মের সেই চিরন্তন স্রোত কে পুনরায় গতি প্রদান করেন, ধর্ম রূপ গঙ্গা কে স্বচ্ছ করেন। মহাবীর দ্বারা উপদেশিত জৈন ধর্ম, যার প্রাচীন নাম অর্হৎ বা নির্গ্রন্থ ধর্ম, এই ধর্মে ব্যক্তি পূজার কোনো স্থান নেই.

কেবল মাত্র এই কালখন্ডে, জৈন পরিভাষায় যাকে 'অবসর্পিনী কাল' বলা হয়, ঋষভদেব থেকে প্রারম্ভ করেপার্শ্বনাথ যেতাম মহাবীর পর্য্যন্ত ২৪ জন তীর্থঙ্কর হয়েছেন, তারা সবাই যা বলেছেন তাই জৈন ধর্ম। মহাবীর তাদের থেকে ভিন্ন কিছু বলেন নি, মাত্র কাল সাপেক্ষে তার ব্যাখ্যা করেছেন।


ভগবান মহাবীর 

মহাবীর স্বামী মন্দির, কোলকাতা 
জাতি প্রথার বিরোধ মহাবীরের অন্যতম অবদান। মহাবীরের সময় বৈদিক ধর্মের এক বিকৃত রূপ সামনে এসেছিল, যার ফলে শূদ্রের উপর প্রচন্ড নির্যাতন হতো. জন্ম থেকে নির্ধারিত হতো জাতি, এবং মানুষের নিজের কোনো স্বাধীনতা ছিল না. মহাবীরের উপদেশ সেই সময়ে শূদ্র এবং তথাকথিত নীচে জাতির জন্য সঞ্জীবনী হয়েছিল। তিনি জন্ম থেকে নয় কিন্তু কর্ম থেকে জাতি স্বীকার করেন।  ভগবান মহাবীর ঘোষণা করলেন

"কম্মনা বম্ভনো হোই, কম্মুনা হোই ক্ষত্তিয়ো,
   কম্মনা বৈশ্য হোই, সুদ্দো হোই কম্মুনা"

অর্থাৎ কর্ম থেকে মানুষ ব্রাহ্মণ হয়, কর্ম থেকেই ক্ষত্রিয় হয়, কর্ম থেকেই বৈশ্য হয় এবং কর্ম থেকেই শূদ্র হয়. জন্ম থেকে নয়, কর্ম অর্থাৎ তার কার্য,  ব্যবহার, দক্ষতা ইত্যাদি থেকে তার জাতি নির্ধারিত হবে. নহাগবান মহাবীর তার শ্রমণ সংঘে সমস্ত জাতির লোক কে গ্রহণ করেছিলেন। তার শিষ্যদের মধ্যে ইন্দ্রভূতি গৌতম  প্রমুখ ব্রাহ্মণ, প্রসেনজিৎ প্রমুখ ক্ষত্রিয়, শালিভদ্র প্রমুখ বৈশ্য এবং হরিকেশবল ইত্যাদি শূদ্ররা স্থান পেয়েছিলেন। তিনি স্ত্রীদের সমুচিত মর্যাদার সাথে শ্রমনী সংঘে দীক্ষিত করেন, চন্দনবালা হয়েছিল তার সাধ্বী প্রমুখা। মহাবীর বলেছিলেন যে চার বর্ণের স্ত্রী -পুরুষ এমনকি নপুংসক ও সম্যক জ্ঞান দর্শন চারিত্র রূপ ত্রিরত্নের সাধনার বলে কেবল জ্ঞান প্রাপ্ত করে, সর্বজ্ঞ হয়ে মোক্ষ প্রাপ্তি করতে পারে অর্থাৎ মানুষই মাত্র ই মুক্তি অর্থাৎ নির্বানের অধিকারী, এর মধ্যে জাতি, বর্ণ , লিঙ্গ ইত্যাদির কোনো ভেদ নেই.

ভগবান মহাবীরের অহিংসার অবধারণ পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ও বিশেষ ভাবে উপযোগী। মহাবীর ই বিশ্বে একমাত্র যিনি কেবলমাত্র প্রাণীজগৎ নয়, কিন্তু উদ্ভিদের মধ্যেও ও প্রাণ আছে এই কথা তা বলেছিলেন। পরবর্তী কালে বাঙালি বৈজ্ঞানিক জগদীশ চন্দ্র বসু এই কথা তা প্রমান করেন মহাবীরের ২৫০০ বাঁচার পারে। মহাবীরের বিরাট চিন্তন আর ও আগে তিনি মাটি, জল, অগ্নি, এবং বাতাসের মধ্যে ও জীব আছে বলেছেন এবং উদ্ভিদ, মাটি, জল, বায়ু, এবং অগ্নি এই পাঁচ তত্বের ও হিংসার নিষেধ করেছেন। এই পাঁচ তত্বের সাহায্য ছাড়া জীবন নির্বাহ অসম্ভব সেই জন্য মহাবীর উপদেশ দিলেন এদের যথাসম্ভব সীমিত ব্যবহার। আজকের পরিবেশ সংরক্ষণের এইটাই মূল সিদ্ধান্ত এবং আজকের ব্যবস্থায় Sustainable Development নাম অভিহিত।

সময়ের অতীতের জানলায় উঁকি দিয়ে দেখলে, পেছনে ২৬০০ বছরের ইতিহাস, তৎকালীন মগধ দেশের ক্ষত্রিয়কুন্ড নগরের রাজা সিদ্ধার্থ এবং মহারানী ত্রিশলার ঘরের আঙ্গনে এক সুন্দর রাজপুত্রের জন্ম দেখতে পাওয়া যাবে। রাজপুত্র হলে হবে কি, সংসারের মনোরম ভোগের প্রতি কোনো রুচি নেই. প্রচন্ড পরাক্রমী এবং দেবদুর্লভ শক্তি থাকা সত্বে ও সে তো শান্তির পূজারী। হৃদয়ে করুনার ধারা বয়. যৌবন বয়সে সদা জ্ঞান চিন্তনে সমাধিস্থ। মাত্র ৩০ বছর বয়সে শুধু রাজ্য নয় সদ্য বিবাহিতা রূপ লাবণ্যময়ী পত্নী যশোদা এবং একমাত্র সদ্যজাত পুত্রী সুদর্শনার মোহ ত্যাগ করে বৈরাগ্য ধারণ করে নির্গ্রন্থ দীক্ষা গ্রহণ করে গৃহত্যাগ করলেন চির শান্তি এবং পরম জ্ঞানের খোঁজে। নিজের হাথে সমস্ত অলংকার ই নয় দেহের বস্ত্র ও ত্যাগ করলেন, আর উপডে দিলেন অপরূপ লাবণ্য যুক্ত নিজের কেশ. তারপর প্রারম্ভ হলো দেশ ভ্রমণ; না কোনো ঘোড়া বা গাড়িতে নয় পায়ে হেঁটে। প্রায় রাত্রিবাস কোনো পাহাড়ের গুহায় অথবা ঘন অরণ্যের মধ্যে কোনো গাছের নীচে, কখনো কখনো কোনো শূন্য গৃহে বা দেবালয়ে। ঘানা জঙ্গলে জীব জন্তুর আক্রমণ হোক বা মশা কামড়ায়; মহাবীর নিজের সাধনায় অবিচলিত।

সাড়ে বার বছরের সাধনায় ঘুমান নি, বসেন ও নি, অতন্দ্রিত ভাবে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নিজের আত্ম সাধনায় নিরত ছিলেন মহাবীর। নিরালস সাধনার বলে রিজুবালিকা নাদির তীরে জৃম্ভিক গ্রামে প্রাপ্ত করলেন দিব্য জ্ঞান অর্থাৎ কেবল জ্ঞান, অজ্ঞানের লেশমাত্র নেই যেখানে, মহাবীর হলেন সর্বজ্ঞ। সর্বজ্ঞ হয়ে নিজের দিব্যজ্ঞানে দেখলেন সংসারের স্বরূপ এবং জগতের দুঃখ দূর করার জন্য উপদেশ প্রারম্ভ হলো.

মগধ থেকে বঙ্গ , গৌড়, কলিঙ্গ, আর উৎকল বেশি দূরে নয়. বর্তমান পশ্চিম বঙ্গ তার পদযাত্রার সাক্ষী হয়েছিল। জৈন আগমে বর্ণিত হয়েছে যে সাধনা কালে মহাবীর রাঢ় দেশের ও যাত্রা করে তাম্রলিপ্ত বন্দর পর্য্যন্ত এসেছিলেন। বাংলার বর্ধমান এবং বীরভূম জেলা মহাবীরের নাম আজ ও বহন করছে। মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণ (রাঙামাটি) ও আজিমগঞ্জ (তৎকালীন জৈনেশ্বর দিহি) ও হয়েছিল তার পদযাত্রার সাক্ষী। বাঁকুড়া, বীরভূম, বর্ধমান, পুরুলিয়া ইত্যাদি জেলায় আজ ও ছাড়িয়ে আছে অসংখ্য জৈন মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ।

ভগবান মহাবীরের ১৫০ বছর পরে সমগ্র পূর্ব ভাৱতে  ভীষণ দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। সেই দুর্ভিক্ষ চলে ১২ বছর পর্য্যন্ত। সেই সংকট সময়ে জৈন সাধুদের কঠিন জীবনচর্যা নির্বাহ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। সেই সময়ে অনেক জৈন সাধুগণ অনশন করে সমাধি গ্রহণ করেন, অনেকে দক্ষিণ ভারতের দিকে প্রয়াণ করেন। সেই সময়ের প্রমুখ আচার্য ভদ্রবাহু পাটলিপুত্রের রাস্তায় নেপাল গিয়ে নিজের সাধনা কে সমর্পিত করলেন। সেই সময় থেকে পূর্ব ভাড়াটে জৈন ধর্মের হ্রাস প্রারম্ভ হয় এবং দক্ষিণ ভারতে প্রাদুর্ভাব।

সেই সময়ের জৈন সাধুদের অভাবে ধর্মাবলম্বীগনের পক্ষে নিজের ধর্মে স্থির থাকা কঠিন হয়ে যায় কিন্তু তারা জৈন ধর্মের মূল আচরণ অহিংসা কে বজায় রাখেন। এই সম্প্রদায় পশ্চিম বঙ্গে সরাক নামে অভিহিত। সরাক শব্দ জৈন গৃহীদের জন্য প্রযুক্ত  শ্রাবক শব্দের তদ্ভব শব্দ। সরাক জাতির লোকেরা আজ ও বিশাল সংখ্যায় পশ্চিম বাংলার বীরভূম, বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ইত্যাদি জেলায় বসবাস করেন।

১৭ ই এপ্রিল ভগবান মহাবীরের জন্ম জয়ন্তী। আজ তার চরণে শ্রদ্ধা সুমন অর্পিত করি.

Jyoti Kothari,


Vardhaman Infotech
eCommerce and Mobile Application development
Jaipur Rajasthan, India
E-mail: info@vardhamaninfotech.com
allvoices

Monday, April 8, 2019

सतरह भेदी पूजा का अर्थ (महोपाध्याय श्री साधुकीर्ति गणि कृत) भाग 8

अथ चतुर्दश धूप पूजा
[दूहा]
गंधवटी मृगमद अगरसेल्हारस घनसार II
धरि प्रभु आगल धूपणाचउदमि अरचा सार II  II

गंधवटी, कस्तूरी, अगर, शिलारस, और कपूर-बरास से निर्मित धुप प्रभु के सन्मुख रख कर  (अग्र पूजा)  की गई धुप पूजा, यह चौदमी पूजा है और यह  सारभूत है. 
[राग-वेलावल]
कृष्णागर कपूरचूरसौगन्ध  पंचे पूर,
कुंदरुक्क सेल्हारस सारगंधवटी घनसार 
गंधवटी घनसार चंदन मृगमदां  रस मेलियेश्रीवास धूप दशांग,
अंबर सुरभि बहु द्रव्य भेलियें II
वेरुलिय दंड कनक मंडंधूपधाणूं  कर धरे II
भववृत्ति धूप करंति भोगंरोग सोग अशुभ हरे II  II

काले रंग का अगर,  कपूर चूर्ण, कुंदरुक्क (लोबान), शिलारस, बरास ऐसे पांच सुगंध से भरपूर ऐसे गंधवटी धुप से प्रभु पूजा करनी है. गंधवटी, कपूर, चन्दन, कस्तूरी,  अम्बर आदि बहुत से सुगन्धित द्रव्य मिला कर, श्रीवास अर्थात चीड़ के वृक्ष का सुगन्धित तेल के साथ दशांग धुप मिला कर (दशांग धुप में पद्मपुराण के अनुसार कपूर, कुष्ठ, अगर, चंदन, गुग्गुल, केसर, सुगंधबाला तेजपत्ता, खस और जायफल से दस चीजें होनी चाहिए) अतिशय सुगन्धित धुप बनाया जाता है.  

(धुप का वर्णन कर अब धूपदानी का वर्णन करते हैं). सोने के दंड में वैदूर्य मणि जड़ कर धूपदानी बनी है जिसे श्रावक अपने हाथ में लेकर (प्रभु के आगे धुप खेता है). धुप पूजा करनेवाला भववृत्ति रूप भोग को नष्ट करता है अर्थात जैसे धुप जलकर धुंआ बनकर उड़ जाता है और उड़ते हुए सुगंध फैलता है उसी प्रकार जीव भी जब अपने भोग वृत्तियों को जला कर नष्ट करता है तब उसके आत्मगुणों की सुवास देशों दिशाओं में फ़ैल जाती है. यह धुप पूजा रोग, शोक एवं सभी प्रकार के अशुभ को नष्ट करनेवाली है. 
[राग-मालवी गौड़]
सब अरति मथन मुदार धूपंकरति गंध रसाल रे II देवाकरo II
झाल (धाम) धूमावली धूसरकलुष पातग गाल रे Ii  देवासुo II  II
ऊध्र्वगति सुचंति भविकुंमघमघै किरणाल रे II देo II
चौदमि वामांगि पूजादीये रयण विशाल रे II
आरती मंगल माल रेमालवी गौड़ी ताल रे II o II  II

सभी अरती अर्थात अप्रीति को नष्ट करनेवाले धुप का रसपूर्ण सुगंध (प्रभु के आगे) करते हैं. अग्नि की ज्वाला से उत्पन्न धुषर वर्ण  का धुआँ सभी कलुष और पाप को गलानेवाला है.  (ऊपर उठता हुआ धुंआ) सुगंध से महकता हुआ भवी जीव के ऊर्ध्वगति को सूचित करता है और जीवन को किरणों से भर देता है. यह चौदवीं पूजा धुप की प्रभु के बायीं ओर की जाती है. इस पूजा के साथ ही विशाल दीपकों से आरती एवं मंगल दीपक करना है. यह पूजा मालवी गौड़ी राग में बनाई गई है. 

अथ पंचदसम गीत पूजा
[दूहा]
कंठ भलै आलाप करिगावो जिनगुण गीत II
भावो अधिकी भावनापनरमि पूजा प्रीत II  II

गले से अच्छी तरह आलाप कर प्रभु के गुणों का गीत गाओ और अधिक भावना भाओ, पंद्रहवीं पूजा के द्वारा प्रभु से प्रीत करो. 
[आर्यावृन्तराग-श्री]
यद्वदनंत-केवलमनंत, फलमस्ति जैनगुणगानम II
गुणवर्ण-तान-वाद्यैर्मात्रा भाषा-लयैर्युक्तं II  II
सप्त स्वरसंगीतैं:, स्थानैर्जयतादि-तालकरंनैश्च II
चंचुरचारीचरै - गीतं गानं सुपीयूषम II  II

जैन तीर्थंकरों के गुणगान का फल अनंत केवलज्ञान रूप फल की प्राप्ति है. उन गुणों को तान, वाद्य, मात्रा, भाषा और ले के साथ गान करो. संगीत के सप्त स्वरों, जायतादि स्थानों से, तथा चंचुर चारी नामक ताल एवं गीतों से किया  गुणगान अमृत वर्षी होता है. (चंचुर का अर्थ डिक्शनरी में दक्ष है। यह कोई ताल है ऐसा कोई उल्लेख मिला क्या?)


[राग-श्री राग]
जिनगुण गानं श्रुत अमृतं I
तार मंद्रादि अनाहत तानंकेवल जिम तिम फल अमितं II जिo II  II
विबुध कुमार कुमारी आलापेमुरज उपंग नाद जनितं II
पाठ प्रबंध धूआ प्रतिमानंआयति छंद सुरति सुमितं  II  II
शब्द समान रुच्यो त्रिभुवनकुंसुर नर गावे जिन चरितं II
सप्त स्वर मान शिवश्री गीतंपनरमि पूजा हरे दुरितं II जिo II  II 


जिनेश्वर देव के गुणों का गान करना सुनने में अमृत के समान है. तार, मन्द्र आदि सप्तकों में और अनाहत तान से गेय गीत  केवल ज्ञान रूप अमित फल देनेवाले है. मृदंग, उपंग आदि से नाद उत्पन्न कर देव, कुमार एवं कुमारी अलाप करते हैं. अविच्छिन्न क्रम से दोषरहित पथ का सुव्यवस्थित प्रवंधन कर, ध्रुव अर्थात निश्चित मापदंड के साथ, प्रमाणोपेत, अलाप का विस्तार कर, छन्दवद्ध गायन मन को अति अनुरक्त करता है.  

शब्द अर्थात बाग्यंत्र एवं वाद्य यंत्रों से उत्पन्न वर्णात्मक एवं ध्वन्यात्मक के सटीक प्रयोग से एवं सामान अर्थात एक ही स्थान से उच्चारण किये जानेवाले स्वरों के माध्यम से, जो परिवेश बनता है वह त्रिलोक को रुचिकर है. ऐसे मधुर गायन से देवगण एवं मनुष्य जिन चरित्र का गान करते हैं.  सात स्वरों के परिमानवाला अर्थात सम्पूर्ण-सम्पूर्ण जाती के श्री राग में गेय यह पंद्रहवीं पूजा दुखों को दूर कर शिवफल प्रदान करनेवाली है. 
अथ षोडश नृत्य पूजा
[दूहा]
कर जोड़ी नाटक करेसजि सुंदर सिणसार II
भव नाटक ते नवि भमेसोलमि पूजा सार II  II

[राग-शुद्ध नट्ट II शार्दुलविक्रीड़ितं वृंत]
भावा दिप्पीणा सुचारुचरणा, संपुन्न-चंदानना,
सप्पिम्मासम-रूप-वेस-वयसो, मत्तेभ-कुम्भत्थणा I
लावण्णा सगुणा पिक्स्सरवई , रागाई आलावना 
कुम्मारी कुमरावी जैन पुरओनच्चन्ति सिंगारणा II  II

भावों से दीप्तिमान, सुन्दर चरणों वाली, पूर्ण चन्द्रमा के सामान मुखवाली, सुन्दर रूप व बेषभुषा वाली समवयस्क , मस्तक पर कलश रख कर (मत्तेभ या मत्थेभ), लावण्य एवं गुणों से युक्त कोयल के सामान मधुर स्वरवाली कुमारिकाएँ  एवं कुमार (युवक-युवतियां) श्रृंगार करके विभिन्न रागों में अलाप करते हुए जिनेश्वरदेव के मंदिर में  नृत्य करतें हैं. 

[गंध]
तएणं ते अट्ठसयं  कुमार-कुमरिओ सुरियाभेणं देवेणं संदिट्ठा,
रंग मंडवे पविट्ठा जिणं  नमंता गायंता वायंता नच्चन्तित्ति II

उस समय एक सौ आठ देव एवं देवी सुरियाभ देव के साथ रंग मंडप में प्रवेश करते हैं, जिनेश्वर देव को नमन करते हैं, गाते हैं, बजाते हैं और नाचते हैं. 

[राग-नट्ट त्रिगुण]
नाचंति कुमार कुमरीद्रागडदि तत्ता थेइ,
द्रागडदि द्रागडदि  थोंग थोगनि मुखें तत्ता थेइ II नाo II  II
वेणु वीणा मुरज वाजैसोलही सिंणगार साजेतन-------
घणण घणण घूघरी धमकेरण्णंण्णंणं नानेई II o II  II
कसंती कंचुंकी तरुणीमंजरी झंकार  करणी शोभंति कुमरी
हस्तकृत हावादि भावेददंति भमरी II नाo II  II
सोलमी नाट्क्कतणीसुरीयाभें रावण्ण किनी सुगंध तत्ता त्थेई II
जिनप भगतें भविक लीणाआनंद तत्ता थेई  II o II  II

कुमार एवं कुमारी नाच रहे हैं और विभिन्न बाद्ययन्त्रों के बोल निकल रहे हैं जैसे द्रागडदि  द्रागडदि, 
थोंग थोगनि, तत्ता थेइ आदि. बांसुरी, बीणा, मृदंग आदि बाद्ययन्त्र बज रहे हैं, और सोलह श्रृंगार करके कुमारिकाएँ घुंघरू की घमक के साथ नृत्य कर रहीं हैं. तरुणी स्त्रियां अपनी कंचुकियों को कस कर, मञ्जरी की झंकार के साथ, अपने हाथों से विभिन्न प्रकार की नृत्य मुद्राएं करते हुए भंवरी देते हुए वे कुमारियाँ शोभायमान हो रहीं हैं. जिस प्रकार यह सोलहवीं नाटक (नृत्य) पुजा सुरियाभ देव एवं रावण जैसों ने कर अपने भव को सार्थक किया था उसी प्रकार जिनेश्वर देव की भक्ति में लींन भवी जीव आनंद प्राप्त करते हैं.  

अथ सप्तदश वाजित्र पूजा
[आर्याव्रतम]
सुर-मद्दल-कंसालोमहुरय-मद्दल-सुवज्जए पणवो II
सुरनारि नंदितूरोपभणेई तूं नंदि जिणनाहो II

देव दुंदुभि, कांसी, एवं मधुर आवाज करनेवाले मादल, शंख आदि सुरीले वाद्य के साथ स्वर्गलोक की देवियां मंगलकारक तुरही बजाकर घोषणा कर रहीं है की हे जिन नाथ आप आनंद मंगल कारक हैं. 
[दूहा]
तत घन सुषिरे आनघेवाजित्र चहुविध वाय II
भगत भली भगवंतनीसतरमी  सुखदाय II  II

तत, घन, सुषिर एवं आनघ यह चार प्रकार के वाजित्र  होते हैं, और ये चारों ही प्रकार के वाजे बज रहे हैं. सत्रहवीं पूजा में भगवंत की यह सुन्दर भक्ति सुख देनेवाली है. 
[राग-मधु माधवी]
तूं नंदि आनंदि बोलत नंदी,
चरण कमल जसु जगत्रय वंदी II
ज्ञान निर्मल वचनी (बावन) मुख वेदी,
तिवलि बोले रंग अतिहि आनंदी II तूंo II  II
भेरी गयण वाजंतीकुमति त्याजंती II
प्रभु भक्ति पसायें अधिक गाजंतीसेवे जैन जयणावंती,
जैनशासनजयवंत निरदंदि II
उदय संघे परिप्पर-वदंती II तूंo II  II
सेवि भविक मधु माघ आखे फेरीभवि ने फेरी नप्पभणंती,
कहे साधु सतरमी पूज वाजित्र सब,
मंगल मधुर धुनि कहे (कर) कहंती II तूंo II  II
 आनंद में, बोलने में भी आनंद (उनके गुण )जिनके चरण कमलों की तीनों लोक वंदना करता है. जिनका (केवल) ज्ञान निर्मल है, वचन भी निर्मल और तत्वज्ञान से परिपूर्ण है, ऐसे प्रभु की भक्ति में तबले के बोल भी आनंद रंग उत्पन्न कर रहे हैं. आकाश में भेरी (दुंदुभि) बज रही है, कुमति का त्याग हो रहा है, प्रभु भक्ति के प्रसाद से ज्यादा जोर से गाज रहा है. जयणा का पालन कर जिनेश्वर देव की सेवा होती है. जिनशासन जयवन्त और निर्द्वन्द प्रवर्त्तमान है. संघ का उदय है ऐसा (ये बाजित्र) बार बार कह रहे हैं. मधु माधवी राग में गेय यह गीत गा कर  जो भविक जन प्रभु की सेवा करता है वह भव के चक्करों से बच जाता है. साधु कीर्ति कहते हैं की सत्रहवीं पूजा में सभी वाजित्र मंगल स्वरुप मधुर ध्वनि बोल रहे हैं.  
कलश [राग-धन्याश्री]
भवि तूं भण गुण जिनको सब दिनतेज तरणि मुख राजे II
कवित्त शतक आठ थुणत शक्रस्तवथुय थुय रंग हम छाजे II  II
अणहिलपुर शांति शिवसुख दाईसो प्रभु नवनिधि सिद्धि आवजे II
सतर सुपूज सुविधि श्रावक कीभणी मैं भगति हित काजे II  II
श्री जिनचन्द्र सूरि खरतरपतिधरम वचन तसु राजे II
संवत सोल अढार श्रावण धूरिपंचमी दिवस समाजे II  II
दयाकलश गुरु अमरमाणिक्य वरतासु पसाय सुविधि हुइ गाजे II
कहै साधुकीरति करत जिन संस्तवशिवलीला सवि सुख साजे II  II 

हे भविक जीव, हर दिन सूर्य के सामान तेज है जिनके मुखमण्डल का, उन जिनेश्वर देव के हर दिन गुणगान करो. पूजा के रचयिता साधुकीर्ति कहते हैं की शक्रस्तव के समान १०८ कवित्तों से यह पूजा गाते हुए उनपर स्तुति और भक्ति का रंग चढ़ा है. अणहिलपुर (जहाँ यह पूजा बनाई गई) में पूर्ण शांति है और यह शिवसुख देनेवाली है. यहाँ नव निधि और सिद्धि कारक श्रावक के करने योग्य यह सत्रह भेदी पूजा भक्ति  की कामना से विधि पूर्वक बनाई है. (इस समय) खरतर गच्छाधिपति श्री जिनचन्द्र सूरी के धर्मवचन रूप शासन है. सम्वत सोलह सौ अठारह (ईश्वी सन 1561) के श्रवण बड़ी पंचमी के दिन इस पूजा को समाज के सामने प्रकाशित किया गया. अपने गुरु श्रेष्ठ दयाकलश अमर माणिक्य के प्रभाव से यह विधि बनाई जा सकी, जिनेश्वर देव के गुणगान करते हुए साधुकीर्ति कहते हैं की यह पूजा सभी सुखों के धाम शिव गति को प्राप्त करनेवाली है.

II इति सतरहभेदी पूजा सम्पूर्णा II



Vardhaman Infotech
A leading Mobile Application Development  company
Jaipur, Rajasthan, India
E-mail: info@vardhamaninfotech.com 
allvoices